সংকটেও বেড়েছে কোটিপতি – দৈনিক গণঅধিকার

সংকটেও বেড়েছে কোটিপতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ আগস্ট, ২০২৩ | ১০:৫৭ 35 ভিউ
ধনী-গরিব সবার আয়েই ধাক্কা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষ করে এর দরুন সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে যখন দেশের দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের হিমশিম দশা, তখন সেই জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটানোর পরও সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের এই সময়ে অতিরিক্ত আয় যোগ হয়েছে। এই আয়ের একটি অংশ ব্যাংকে আমানত হিসেবে গচ্ছিত আছে। দিনদিন তাদের এই আমানতের পরিমাণও বাড়ছে। যার মাধ্যমে দেশে কোটিপতি আমানতকারীদের সংখ্যা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সম্পর্কিত হালনাগাদ প্রতিবেদন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবশেষ গত তিন মাসে ব্যাংকে কোটি টাকার ওপরে হিসাবধারী আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৪৬টি। আর এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯৫টি। বর্তমানে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ১৯২টি, তাদের মোট আমানতের পরিমাণ ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা; যা ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের প্রায় ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ১১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৬টি। এসব হিসাবে মোট আমানত রয়েছে ১৬ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ১৯২টি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯৭টি। আর ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। সেই হিসাবে, গত তিন মাসে কোটি টাকার ওপরে হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৪৬টি। আর ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবে জমা ছিল ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন এক শ্রেণির মানুষের অর্থবৃদ্ধি দেশে আয় বৈষম্য বাড়ার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আশঙ্কাজনক হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী মানুষের আয় বাড়েনি। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন অবস্থায় অর্থ জমানো দূরের কথা, অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। এই সময় দেশের একটি শ্রেণির মানুষের আয় বেড়েছে। তারা হচ্ছেন পুঁজিপতি, বিত্তবান ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাদের আয় আগেও বেশি ছিল, এখন আরও বেড়েছে। মূলত আয়বৈষম্যের কারণেই দেশের কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকা অর্জন, হন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচারে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা, প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা ভিন্ন খাতে স্থানান্তর, করনীতিতে অসামঞ্জস্য, ধনীদের কাছ থেকে কম হারে কর আদায়ও দেশের আয় বৈষম্যের অন্যতম কারণ। এসব কারণে এক শ্রেণির মানুষের বৈধ ও অবৈধ উপায়ে আয় বাড়ছে। তবে আয় কমেছে—এমন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর সরকারকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি এম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কোটিপতি আমানতধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলো সমাজের আয় বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করার একটা অন্যতম দৃষ্টান্ত। দেশে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার কারণেই এই আয় বৈষম্য বাড়ছে। তাই বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে সামনে এটি আরও বাড়তেই থাকবে। তবে একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ, ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক হিসাবও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে ৫ কোটি ১ থেকে ১০ কোটির মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার ৪০টি হিসাব। এসব অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ ৮৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১০ কোটি ১ থেকে ১৫ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫টি। ১৫ কোটি ১ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার ৮৭৪টি অ্যাকাউন্টে আমানত ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যে অ্যাকাউন্ট ১ হাজার ১৪৫টি, ২৫ কোটি ১ থেকে ৩০ কোটির মধ্যে হিসাব রয়েছে ৯২৭টি। ৩০ কোটি ১ থেকে ৩৫ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ৪৯৯টি। ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটির মধ্যে ৩২৭টি, ৪০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৬৪৬টি। এ সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা কমে ১ হাজার ৭৫৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে কোটিপতি হিসাব দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টি।

দৈনিক গণঅধিকার সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘নির্বাচনি প্রিমিয়ার লিগে’ একাই খেলছেন পুতিন কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ায় পিতা-পুত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খোকসায় একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও চলছে ভেজাল গুড়ের কারখানা খোকসায় চলছে ভেজাল গুড়ের কারখানা আদালত বর্জন বিএনপির আইনজীবীদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বনামধন্য ইংলিশ প্রতিষ্ঠান CEL এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত ভূ-রাজনীতির ফাঁদে বাংলাদেশ শায়েস্তাগঞ্জ পূজা উদযাপন সাড়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ওসির! ইসরাইলের অভিযান নিয়ে যা বললেন পুতিন বেরিয়ে আসছে ব্যাটারদের হতশ্রী চেহারা নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের হার উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ চার অগ্রাধিকার নীতি ঘোষণা চালকের কিস্তি আর সংসারের চাকা ঘুরাল ‘টিম পজিটিভ বাংলাদেশ’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি ভালো হয় না: ফখরুল পিটার হাসের বক্তব্যের প্রতিবাদে যা বললেন সাংবাদিকনেতারা ‘কোনো চুক্তিতে দেশে ফিরছেন না নওয়াজ শরিফ’ পদার্থে নোবেল পেলেন ৩ জন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দমনে কঠোর অবস্থানে সরকার: বাহাউদ্দিন নাছিম