পার পেয়ে যাচ্ছে জাল টাকার কারবারিরা – দৈনিক গণঅধিকার

পার পেয়ে যাচ্ছে জাল টাকার কারবারিরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৩ | ৪:১৭ 60 ভিউ
জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ রয়েছে। তবে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রগতি কম। আলাদা আইন না থাকা এবং সাক্ষীর অভাব এর অন্যতম কারণ। অবশ্য ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছরই জাল নোট-সংক্রান্ত মামলা কমছে। ২০২২ সালে সারাদেশে জাল নোট বিষয়ে মাত্র ১৩২টি মামলা হয়েছে। আট বছর আগে ২০১৫ সালে যেখানে মামলার সংখ্যা ৪৩৯টি। সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনি দুর্বলতার কারণে জালকারবারিদের শাস্তির নজির কম। পুলিশ গ্রেপ্তার করার কিছুদিনের মধ্যে বেশিরভাগই ছাড়া পেয়ে যায়। এর প্রধান কারণে জাল নোট বিষয়ে আলাদা কোনো আইন নেই। বর্তমানে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৮৯(ক)-(ঘ) ধারা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর ২৫(ক) ধারা অনুযায়ী জাল নোটের বিচার হয়। এ আইনে কারও বিরুদ্ধে শাস্তি দিতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়রানির ভয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাওয়া যায় না। এ বাস্তবতায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে একটি আইনের খসড়া প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ২০১৫ সালে একটি কমটি হয়। ওই কমিটি ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন-২০১৭’-এর খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন আইন এখনও হয়নি। খসড়ায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর পরিবর্তে জব্দ আলামতের ভিত্তিতে শাস্তির বিধান করার প্রস্তাবনা রয়েছে। আর সর্বোচ্চ শাস্তির প্রস্তাব ছিল আমৃত্য কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে জাল নোট-সংক্রান্ত ১৮টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৮টি মামলা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন থানায় এ-সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন মামলা রয়েছে ৬ হাজার ৮২৬টি। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অনিষ্পন্ন মামলা ছিল ৬ হাজার ৮৩৬টি। ২০২২ সালে ১৩২টি নতুন মামলার বিপরীতে ১৭০টি নিষ্পত্তি হয়। আগের বছর ১৬৬টি নতুন মামলার বিপরীতে মাত্র ২০টি নিষ্পত্তি হয়। গত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ ৪৩৯টি মামলা হয় ২০১৫ সালে। ওই বছর নিষ্পত্তি হয় ৪৯টি মামলা। এরপর থেকে প্রতিবছর নতুন মামলার সংখ্যা কমছে। অবশ্য করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ১৩৬টি মামলা হয়। নিষ্পত্তি হয় ৭৮টি। সব মিলিয়ে ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ২ হাজার ৪৮৬টি নতুন মামলা হয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯৭৭টি। আবার আইনি দুর্বলতার কারণে জাল নোট বা নোট তৈরির সরঞ্জামসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পরও ছাড়া পাওয়ার নজির রয়েছে। রাজধানীর ধলপুর থেকে গত ৯ এপ্রিল ৬৫ লাখ জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ চক্রের মূলহোতা কাউছার হোসেন ওরফে কাশেমসহ অন্যরা অন্তত ১৫ বছর এ কারবারে যুক্ত বলে জানায় পুলিশ। এর আগে গত ২৭ মার্চ জালকারবারি আলাউদ্দিন চক্রের চার সদস্যকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩ লাখ ৪৪ হাজার ভারতীয় জাল রুপি এবং বাংলাদেশি ৬ লাখ ৯২ হাজার টাকার জাল নোট। এ চক্র অনেক আগে থেকে জালকারবারিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। উভয় চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জাল কারবারিদের ঠেকাতে প্রতিবছর রমজান ও কোরবানি ঈদের আগে জনসচেতনতার জন্য ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আসল নোট চেনার উপায় বিষয়ে রাস্তার মোড়ে অন্তত এক ঘণ্টা করে ভিডিওচিত্র প্রচার করতে বলা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি শাখায় গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরে পুরো ব্যাংকিং সময়ে একই ভিডিও বারবার প্রদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে জালকারবারিরা নানাভাবে কৌশল বদলে মানুষের হাতে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়। প্রস্তাবিত আইনে আরও যা আছে খসড়ায় বলা হয়, জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, কারখানা বা বড় চালানসহ কাউকে গ্রেপ্তার করলে তা জামিন অযোগ্য মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ দণ্ডিত হলে দুই বছর থেকে যাবজ্জীবন জেল হবে। আর ১ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। অপরাধের ধরন বুঝে কাউকে উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। যত জাল নোট তৈরি বা সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হবে শাস্তি হবে তত বেশি। একই ব্যক্তি একাধিকবার অপরাধী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি বেড়ে যাবে। আর জাল নোটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিচারের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে মূল সাক্ষী হিসেবে গণ্য করতে হবে। দ্রুততম সময়ে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন-২০০২ এর ৬ ধারা সংশোধন করে ‘জাল নোটের’ বিষয়টি যুক্ত করতে হবে। গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

দৈনিক গণঅধিকার সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘নির্বাচনি প্রিমিয়ার লিগে’ একাই খেলছেন পুতিন কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ায় পিতা-পুত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খোকসায় একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও চলছে ভেজাল গুড়ের কারখানা খোকসায় চলছে ভেজাল গুড়ের কারখানা আদালত বর্জন বিএনপির আইনজীবীদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বনামধন্য ইংলিশ প্রতিষ্ঠান CEL এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত ভূ-রাজনীতির ফাঁদে বাংলাদেশ শায়েস্তাগঞ্জ পূজা উদযাপন সাড়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ওসির! ইসরাইলের অভিযান নিয়ে যা বললেন পুতিন বেরিয়ে আসছে ব্যাটারদের হতশ্রী চেহারা নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের হার উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ চার অগ্রাধিকার নীতি ঘোষণা চালকের কিস্তি আর সংসারের চাকা ঘুরাল ‘টিম পজিটিভ বাংলাদেশ’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি ভালো হয় না: ফখরুল পিটার হাসের বক্তব্যের প্রতিবাদে যা বললেন সাংবাদিকনেতারা ‘কোনো চুক্তিতে দেশে ফিরছেন না নওয়াজ শরিফ’ পদার্থে নোবেল পেলেন ৩ জন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দমনে কঠোর অবস্থানে সরকার: বাহাউদ্দিন নাছিম