মতাদর্শ যা-ই হোক, চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে: সারজিস – দৈনিক গণঅধিকার

মতাদর্শ যা-ই হোক, চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে: সারজিস

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ | ১:৪৫
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে ৷ যে মতাদর্শেরই হোক না কেন, যদি পূর্বে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায়, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকে তাহলে নাগরিক হিসেবে সরকারি চাকরি পাওয়া তার সাংবিধানিক অধিকার ৷ কোনও অহেতুক এক্সকিউজে যেটা ক্ষুণ্ন করা কখনোই ভালো বার্তা বহন করে না ৷ শনিবার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ৪৩তম বিসিএস এর পুনরায় ভ্যারিফিকেশন হয়েছে ৷ ১৬৮ জনকে এই ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে ৷ প্রথম ও দ্বিতীয় ভ্যারিফিকেশন মিলে মোট বাদ পড়েছে ২৬৭ জন উল্লেখ করে সারজিস আলম দাবি করেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ রিপোর্ট ৷ অর্থাৎ পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড ৷ ‘কিন্তু এখানে অনেকগুলো প্রশ্ন আছে’ বলে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগ পরিবার ব্যতীত অন্যান্য পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা যে কারও জন্য এই প্রথম শ্রেণির সরকারি ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন বিষয় ছিল। একই ধরনের একটি চিত্র যদি এখন দেখা যায় তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? যে চাকরিপ্রার্থী সে যদি নিজ যোগ্যতায় প্রিলিমিনারি, রিটেন, ভাইভা পাশ করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয় এবং তার যদি পূর্বে কোনও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকে তাহলে তার বাবা, চাচা, মামা, নানার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন- এমন প্রশ্ন করে তিনি আরও লিখেছেন, আমি কী করবো সেটা কি আমার চাচা নির্ধারণ করতে পারে? কিংবা আমার চাচা কী করবে সেটা কি আমি নির্ধারণ করতে পারি? একটা সময় পরে সবাইকে ব্যক্তিগত জীবন গোছাতে হয় ৷ ইভেন আমার বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে আমার চিন্তা-ভাবনার মিল নাও থাকতে পারে ৷ তাহলে পরিবারের কোনও একজন সদস্যের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে অন্য একজন সদস্যকে বঞ্চিত করার অধিকার রাষ্ট্র পায় কিনা? সাবেক এই সমন্বয়ক আরও বলেন, সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটা এবার হয়েছে- গোয়েন্দা সংস্থার অনেকে গিয়ে এবার ইউনিয়ন আর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সেক্রেটারির কাছে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীদের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা জানতে চেয়েছে! তার মানে সারা জীবন অধ্যবসায় করা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট এক মেধাবী তরুণ প্রায় ৩ বছর দিনরাত এক করে পড়াশোনা করার পর প্রিলি-রিটেন-ভাইভা পাশ করে ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোন এক ওয়ার্ড সভাপতি সেক্রেটারির মতামতের কাছে জিম্মি হয়ে যাবে? সে তার কর্ম নির্ধারণ করবে? তাহলে এতো আয়োজনের কী দরকার ছিল? এই ভ্যারিফিকেশন তো তাহলে প্রিলির আগে হয়ে যাওয়া উচিৎ৷ তাহলে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হতো না ৷ আর কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে সে এই মতামত দেয়? স্থানীয়ভাবে এমনিতেই নেতিবাচক একটা পলিটিক্স দেখা যায়, কে কারে ল্যাং মেরে উঠতে পারে! যদি একজন চাকরিপ্রত্যাশী এমন স্থানীয় পলিটিক্সের শিকার হয় তাহলে সে দায় সরকার নেবে কিনা? অমর একুশে হলের এক বিসিএস পরীক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমার অমর একুশে হলের জাকারিয়া ভাই অ্যাডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিল৷ কী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি! ডিপার্টমেন্ট ফার্স্ট, এমএস এ সিজিপিএ ৪.০০ আউট অব ৪.০০! প্রথম ভ্যারিফিকেশন উতরে গেলেও রি-ভ্যারিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়! যারা উনাকে চেনেন তাদের সবার আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা! আমি ভেবেছিলাম আওয়ামী আমলে উনাকে আটকানো হতে পারে! কারণ উনার দাঁড়ি আছে, নুরানী চেহারা, ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ৷ জামাত-শিবির ট্যাগ দেওয়া সহজ ৷ কিন্তু উনাকে আটকানো হলো এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে! কিন্তু এখন তো নিয়োগের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া নতুন করে সেট হওয়ার কথা ছিল! এটা শুধু একটা এক্সামপল, এমন আরও অনেকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, পরে দেখলাম যারা বাদ পড়েছে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন করে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে ৷ কিন্তু এই ভ্যারিফিকেশন খেলা কেন? এখানে অনেকেই আছে যারা পূর্বের চাকরি ছেড়ে এসেছে, অনেকের ছিল জীবনের শেষ চাকরির পরীক্ষা, অনেকের সামনের জীবন নির্ভর করছে এই চাকরির উপর। সেখানে যদি এমন রিয়েলিটি সেট করা হয় তবে যে প্রজন্ম আগামীর চাকরিপ্রার্থী তারা আপনাদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না, দোদুল্যমান অবস্থায় না থেকে দেশ ছেড়ে চলে যাবে ৷ অলরেডি এটা নিয়ে কথা শুরু হয়েছে ৷ যেটা কখনোই কাম্য নয়।

দৈনিক গণঅধিকার সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত

কুষ্টিয়াতে বিএনপি ও যুবদলের উপর ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের দায়-প্রতিবাদে পৃথক সংবাদ সম্মেলন।

পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল মা-মেয়ের আহত ২

ভেড়ামারায় গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা দায়ের

২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায়।

শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র দিলেন ঢাবি উপাচার্য

নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা—৩ জন গ্রেফতার।


শীর্ষ সংবাদ:
কুষ্টিয়াতে বিএনপি ও যুবদলের উপর ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের দায়-প্রতিবাদে পৃথক সংবাদ সম্মেলন। পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল মা-মেয়ের আহত ২ ভেড়ামারায় গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা দায়ের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায়। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র দিলেন ঢাবি উপাচার্য নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা—৩ জন গ্রেফতার। পঞ্চগড়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগে,স্ত্রী আটক আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা,রুমিন ফারহানা শুধু সংসদ সদস্যই নয়,ওনি ভাষা শহীদ অলি আহাদের মেয়ে কুমারখালী হাসপাতালে ৮ মেডিকেল অফিসারের যোগদান। আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদানের পরও গ্রেপ্তার দৌলতপুরে রহস্যজনক মৃত্যু, তালাবদ্ধ ঘর থেকে গলিত লাশ উদ্ধার ভিপি নুর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে কুষ্টিয়ায় আনন্দ মিছিল। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি অর্ধকোটি টাকাসহ আটক জামায়াতের আমির হাসপাতালে ভর্তি মেহেরপুরের দুটি আসনে ব্যালট পেপার সহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শুরু দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: বিদেশি পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নির্বাচনের ছুটিতে মুন্সীগঞ্জে ঘরমুখী মানুষদের পথে পথে ভোগান্তি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কাজ : আসাদুজ্জামান আলী।